পরিবেশের উপর এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব

আজকের জীবনে এআইকে বাদ দিয়ে আমাদের চলা প্রায় অসম্ভব। আইফোন খুলে হ্যালো সিরি বলে যা জানতে চাওয়া হবে সেই তথ্য সিরির কাছে থাকলেই তৎক্ষণাত উত্তর দিয়ে দেবে। গুগল জ্যাঠার কাছে তো দুনিয়ার সব খবর জমা হয়ে আছে। সার্চ, ম্যাচ হচ্ছে না—এমন অঘটন নেহাতই সামান্য।

এ আই বা কৃত্রিম বুদ্ধমত্তা কী?

পরিবেশের উপর এআই এর প্রভাব আছে কি নেই জানার জন্য অবশ্যই জানা দরকার এআই জিনিসটা কী। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই(artificial intelligence) এমন একটি প্রযুক্তি যা প্রথম অবস্থায়, তাকে দেওয়া মানব সমাজের বিভিন্ন ডেটা বা তথ্যকে বিশ্লেষণ ও তার শ্রেণিবদ্ধকরণের কাজ করত। মানুষের নিরন্তর গবেষণা এখন এআইকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছে যেখানে দাঁড়িয়ে তথাকথিত সভ্য দুনিয়ার প্রায় কোনো কাজই আর এআই প্রযুক্তি ছাড়া চলে না। এই পর্যায়ের এআইকে জেনারেটিভ এআই বলা হয়। জেনারেটিভ এআই শুধু তথ্যকে বিশ্লষণ করেই ক্ষান্ত থাকে না, সেই বিশ্লেষণের উপর দাঁড়িয়ে সে নিজে থেকেই নতুন কনটেন্ট তৈরি করতে পারে, যা লেখা, ভিডিও, অডিও বা ছবি যেকোনো কিছু হতে পারে।

এআই কী ধরনের কাজ করে

আজকের জীবনে এআইকে বাদ দিয়ে আমাদের চলা প্রায় অসম্ভব। আইফোন খুলে হ্যালো সিরি বলে যা জানতে চাওয়া হবে সেই তথ্য সিরির কাছে থাকলেই তৎক্ষণাত উত্তর দিয়ে দেবে। গুগল জ্যাঠার কাছে তো দুনিয়ার সব খবর জমা হয়ে আছে। সার্চ, ম্যাচ হচ্ছে না—এমন অঘটন নেহাতই সামান্য। অ্যালেসাকে যে গান শোনাতে বলা হবে সে সঙ্গে সঙ্গে সেই গান বাজিয়ে দেবে। গুগল, মাইক্রোসফ্ট, নেটফ্লিক্স, ইউটিউব, মেটা বা সোশ্যাল মিডিয়া সবই এআই দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। গুগল ম্যাপ চালিয়ে গাড়ি চালানো বা প্রয়োজনে ওলা-উবের ডেকে নেওয়া, অ্যাপ-নির্ভর সবেতেই এআই ছাড়া চলবে না।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে রোগ নির্ণয় ও রোবটিক্সের মাধ্যমে সার্জারির ক্ষেত্রে। ওষুধের গবেষণাতেও সাহায্য করছে এআই। আসলে যেখানে অনেক বেশি পরিমানে ডেটা বা তথ্যকে কাজে লাগাতে হয় সেখানেই এআই এর ব্যবহার মানুষের কাজকে সহজ করে দিতে সক্ষম। আগামীদিনে ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে আর ড্রাইভারের প্রয়োজন হবে না। এআই প্রযুক্তি যেন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের জিন, যেকোনো জায়গায় মানুষের শ্রমকে প্রতিস্থাপিত করে দেওয়ার ক্ষমতা সে রাখে। তাহলে জানা প্রয়োজন এআই কীভবে কাজ করে, কী এর চালিকা শক্তি।

এআই এর চালিকাশক্তি

স্মার্ট ফোনের অ্যামাজন অ্যাপটি খুলে অ, আ, ক, খ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বসে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসের অর্ডার করল। অ্যামাজন পৃথিবীর ৩৫ টি ভৌগোলিক অঞ্চলে ১২০টির বেশি ডেটা সেন্টার তৈরি করেছে। এই ডেটা সেন্টারের প্রত্যেকটিতে ৫০,০০০ র উপর সার্ভার আছে যেগুলি ডেটা সংরক্ষণ করছে। এর জন্য অ্যামাজন পৃথিবীব্যাপী ২০ মিলিয়ন কিলোমিটার ফাইবার অপটিক্যাল কেবল বসিয়েছে। এই সার্ভারগুলো এবং ডেটা সেন্টারগুলি ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরস্পর সংযুক্ত যাকে ক্লাউড নেটওয়ার্ক বলা হয়। বিশাল এই নেটওয়ার্ক সদা সর্বদা সচল। সঙ্গে সঙ্গে অ, আ, ক, খ দের অবস্থান অনুসারে জিনিসের প্রাপ্যতা যাচায় করে অর্ডার নিয়ে নেওয়া হয় অ্যামাজনের তরফে। নেটওয়ার্কের সচলতা নির্ভর করে বিদ্যুৎ শক্তির উপর। বিদ্যুতের ঘাটতি হলে যদি কোনো একটি ডেটা সেন্টারে সার্ভার ডাউন থাকে, মানে সার্ভার কাজ না করে তবে অ্যামাজনের কোটি কোটি টাকা লোকসান হয়ে যাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই। প্রতিনিয়ত তাই ডেটা সেন্টারের সমস্ত সার্ভারকে সচল রাখতে হয় এবং আপডেট করে যেতে হয় বিদ্যুৎ শক্তির সাহায্যে।

নির্দিষ্ট কয়েকদিন পরে অ্যামাজনের ডেলিভারি পার্সন বাড়িতে বেল বাজিয়ে জিনিস দিয়ে চলে যাচ্ছে। কাছাকাছি থাকা ডেলিভারি পার্সনকে চিহ্নিত করা, নূন্যতম দূরত্বের কোন জায়গা থেকে জিনিসটি নিতে হবে এই সমস্ত নির্দেশ এআই এর বিগ ডেটা হ্যান্ডলিং ক্যাপাসিটির সাহায্যে খুব সহজেই সম্পন্ন করা হয়। শুধু ফোনটির মোবাইল ডেটা অন থাকতে হবে। সমগ্র প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য বিদ্যুৎ। ঘরে বসে জিনিসটি হাতে পেয়ে সকলে তাদের সময়, শ্রম ও যাতায়াতের খরচ সাশ্রয় করে সন্তুষ্ট হলেন। বিদ্যুৎ তথা জীবাশ্ম জ্বালানির দহনজনিত খরচ ও ক্ষতি হিসাবের বাইরে থেকে গেল। তেলের খরচ কিছুটা ওঠে দায়হীন সস্তা শ্রমের ডেলিভারি পার্সনদের শোষন করে। এখানেই পুঁজির বিপরীতে প্রকৃতির দহন আর শ্রমের শোষণ এক সরলরেখায় দাঁড়িয়ে থাকে।

আধুনিক ডেটা সেন্টারগুলো এক একটি ছোট শহরের সমান বিদ্যুৎ খরচ করে। ডেটা সেন্টারের হাজার হাজার কম্পিউটারের চিপগুলিকে সক্রিয় রাখতে গেলে এদের শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে রাখতে হয়। এটি বিদ্যুৎ খরচের আর একটি চ্যানেল। যে ডেলিভারি পার্সন দোড়গোড়ায় হাজির হলেন তাকে নির্দিষ্ট জায়গাটি খুঁজে পেতে ব্যবহার করতে হয়েছে গুগল ম্যাপ। এখানেও ভিন্ন একটি ক্লাউড সিস্টেমের মাধ্যমে সারা পৃথিবীর অলিগলির তথ্য সংরক্ষিত হচ্ছে বিগ ডেটার আকারে। একা অ্যামাজনের ১২০ টার উপর ডেটা সেন্টার আছে, যারা প্রত্যেকে এক একটা ছোট শহরের সমান বিদ্যুৎ খরচ করছে। গুগল, মেটা, মাইক্রোসফ্ট এদেরও রয়েছে নিজস্ব ডেটা সেন্টার। যারা প্রত্যেকে নিজেদের মধ্যে ডেটা বেচা-কেনা করে, কারণ ডেটাই এআই এর দুনিয়ায় সবথেকে বড় পণ্য। যতদিন যাবে ডেটার পরিমান তত বাড়বে, সেই সঙ্গে বাড়বে ডেটা সেন্টারের সংখ্যা, সার্ভারের সংখ্যা। পাল্লা দিয়ে বাড়াতে হবে বিদ্যুতের যোগান। বিদ্যুতের যোগান মানে ঘুরিয়ে সেই জীবাশ্ম জ্বালানির যোগান। আর জীবাশ্ম জ্বালানির দহন মানে কার্বন ডাইঅক্সাইডের উৎপাদন।

জেনারেটিভ এআই, যার মাধ্যমে নানান ক্রিয়েটিভ কাজ করা যায় তার বিশেষত্ব হল এর জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির চাহিদা আরও বেড়ে যায়। বিজ্ঞানীরা অনুমান করেছেন যে, জেনারেটিভ এআই এর চাহিদার কারণে উত্তর আমেরিকার ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুতের চাহিদা ২০২২ সালের শেষের দিকে ২,৬৮৮ মেগাওয়াট থেকে ২০২৩ সালের শেষে ৫,৩৪১ মেগাওয়াট হয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা(OECD)-এর মতে ২০২২ সালে জেনারেটিভ এআই এর ডেটা সেন্টারগুলির বিদ্যুতের ব্যবহার ৪৬০ টেরাওয়াট-ঘন্টা ছিল। এর ফলে ডেটা সেন্টারগুলি সৌদি আরব(৩৭১ টেরাওয়াট-ঘন্টা) এবং ফ্রান্সের(৪৬৩ টেরাওয়াট-ঘন্টা) মাঝে বিশ্বের একাদশ বৃহত্তম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীতে পরিণত হয়েছিল। ২০২৬ সালের সঠিক ডেটা না থাকলেও অনুমান বর্তমানে ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহার ১,০৫০ টেরাওয়াট-ঘন্টার কাছাকাছি আছে। এর অর্থ ডেটা সেন্টারগুলোকে বিদ্যুৎ খরচের বৈশ্বিক তালিকায় রাশিয়া ও জাপানের মাঝে পঞ্চম স্থানে রাখতে হবে। (টেরাওয়াট-ঘন্টা মানে ট্রিলিয়নওয়াট-ঘন্টা, বিদ্যুৎশক্তি খরচের একটি বড় ইউনিট যা দিয়ে একটি দেশ, শহর বা শিল্প সংস্থার বার্ষিক বিদ্যুৎ খরচকে বোঝানো হয়।)

এত গেল ডেটা সেন্টারগুলিকে সচল রাখার হিসাব। ডেটা সেন্টারের হাজার হাজার সার্ভারকে ঠান্ডা করতে সর্বদা মিঠা জলের প্রবাহ পাঠাতে হয়, যা প্রকৃতপক্ষে পানীয় জল হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে। সার্ভার হিসাবে যে কম্পিউটারগুলো কাজ করে তার ভিতরে থাকে চিপ। এই চিপ তৈরি হয় বিভিন্ন ধরনের বিরল খনিজ পদার্থের দ্বারা, যা নিষ্কাশনের জন্য দরকার হয় প্রচুর পরিমানে জল। নিষ্কাশন প্রক্রিয়ায় দূষণ নিয়ন্ত্রণে রাখাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ। খনি অঞ্চলেই একটন ধাতু নিষ্কাশনের জন্য ২০০ কিউবিক মিটার পর্যন্ত জল খরচের প্রয়োজন হয়। জলের সঙ্গে অ্যাসিড বর্জ মিশে গিয়ে অনেক সময় তা মাটির নিচে চলে যায়। ফলে ভূগর্ভস্থ পানীয়জল দূষিত হয়ে যায়। জলের মধ্যে মিশে থাকা বর্জকে রাখার জন্য খনি অঞ্চলে রিজার্ভারের ব্যবস্থা করা হয়, যাকে tailing pond  বলে। এই tailing pond এ থোরিয়াম, ইউরেনিয়ামের মতো তেজষ্ক্রিয় পদার্থও মিশে থাকে। চীনের বাওতৌ টেইলিং পন্ড, যা পৃথিবীতে বৃহত্তম সেখানে ৭০,০০০ টন থোরিয়াম জমে আছে। এখানেই শেষ নয়। কম্পিউটারগুলির আবার নির্দিষ্ট লাইফ-টাইম আছে, মানে ৪-৫ বছর অন্তর প্রতিস্থাপন না করলে গোটা নেটওয়ার্কে সমস্যা তৈরি হবে। কম্পিউটারগুলো সেইভাবেই তৈরি করা হয়, নাহলে পুঁজির চাকা ঘুরবে না। অর্থাৎ এআই বিপুল পরিমান জল ও বিদ্যুৎশক্তি খরচ করার সঙ্গে সঙ্গে পর্বতপ্রমাণ ইলেকট্রনিক বর্জ উৎপাদন করে প্রতিবছর। এই বর্জের পুনর্নবীকরণ না হলে তা মানুষ ও প্রকৃতির বিপাকক্রিয়াকে বিঘ্নিত করে বিপাকীয় ফাটল সৃষ্টি করবে।

ডিজিটাল উপনিবেশ

ডিজিটাল দুনিয়ায় একচেটিয়া কর্তৃত্ব আছে যে টেক কোম্পানিগুলির যেমন গুগল, মাইক্রোসফ্ট, অ্যামাজন, মেটা, স্টারলিং এরা সকলেই আমেরিকার ব্যক্তিমালিকানাধীন। ডিজিটাল জগতের উত্থান সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। আজকের দিনে ডেটা একটি বড় পণ্য। এই পন্য আমেরিকার সংস্থাগুলোকে তাদের ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারকারী ব্যক্তির আচরণ ও পছন্দ বিশ্লেষণ করে নিজেদের পরিসেবাকে ক্রমাগত উন্নত করে ব্যবসা বৃদ্ধিতে সাহায্য করছে। ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারকারীর ডেটা তার অনুমতি ছাড়াই বেচা-কেনা হয়, বিভিন্ন মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়। যেমন আমি হোয়াটসঅ্যাপে কারো সঙ্গে কোনো প্রডাক্টের বিষয়ে মেসেজ আদান-প্রদান করার পর ফেসবুক খুললে দেখতে পাব ওই প্রডাক্টের বিজ্ঞাপন চলে আসছে স্ক্রিনে। অনেক সময় কোনো সাইটকে ডেটা ব্যবহারের সম্মতি না দিলে সাইট খোলার পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়াই যাবে না। এইভাবে আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় তথ্য আকারে স্থানান্তরিত হয়ে যাচ্ছে, যা দিয়ে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হচ্ছে। ডেটা ব্যক্তি ও সমষ্টির আচরণের নির্ভুল পূর্বাভাস দিতে সক্ষম, যা তাকে বা তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় বিশেষ সংস্থা বা রাজনৈতিক দলকে এগিয়ে থাকতে সাহায্য করে। যেহেতু ডিজিটাল দুনিয়ায় গ্লোবাল নর্থের আধিপত্য রয়েছে তাই তথ্যের ব্যবহার অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে গ্লোবাল নর্থের দিকে ঝুঁকে আছে, যা গ্লোবাল সাউথের সঙ্গে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতাকে আরও দৃঢ় করে। এইভাবেই গ্লোবাল সাউথের উপর গ্লোবাল নর্থের ডিজিটাল আধিপত্য তৈরি হয়েছে, যা পুঁজি রপ্তানির মাধ্যমে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ও ডিপ-স্টেট পলিটিকসের মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হয়।

ডেটার উপর নির্ভর করা এই যে সাম্রাজ্য, তাকে টিকিয়ে রাখার জন্য ক্রমবর্ধিত বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর জন্য শুধু আমেরিকার নিজের জ্বালানির উপর ভরসা করলে চলবে না। তাই ভেনেজুয়েলা, ইরানসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের তেলের উপর নিয়ন্ত্রণ দরকার। ফলে সামরিক আগ্রাসনকে হাতিয়ার করে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে হয়। শুধু তাই-ই নয় ইলেকট্রনিক্সের চিপ তৈরির জন্য বিরল খনিজও দরকার। তাই দক্ষিণপূর্ব এশিয়াতেও ঘটে চলেছে নানান পালাবদল। আমরিকার দ্বিচারিতা স্পষ্ট হয় যখন একদিকে কার্বন নিঃস্বরণকে শূণ্যতে নামিয়ে আনার চুক্তিতে সাক্ষর করে, অপরদিকে ডিজিটাল সাম্রাজ্যকে বাড়িয় চলে যা পুরোপরি দাঁড়িয়ে আছে বিদ্যুতের উপর, যার জন্য কার্বন নিঃস্বরণ অবধারিত।

পরিশেষে

আগেই বলেছি চিকিৎসা জগতে এআই এর প্রয়োগ মানবকল্যণে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জনে সক্ষম। একইভাবে আবহাদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এআই এখন প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবর অনেক নিখুঁত আকারে আগাম জানাতে সক্ষম, যা প্রাণহানির সংখ্যাকে শূণ্যে নামিয়ে আনতে পারে। যদিও প্রকৃতিক ক্ষয়-ক্ষতি আটকাতে পারে না। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঋতুভিত্তিক চাষ আজ ভীষণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কৃষিক্ষেত্রেও বিকল্প প্রযুক্তি সন্ধানের গবেষণায় সাহায্য করতে পারে এআই। মানুষের তৈরি এআই কোনোদিনই মানুষকে অতিক্রম করে যেতে পারবে না। এআই মানুষের কাজকে সহজ করতে পারে, মানুষের সৃষ্টিশীলতাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। কিন্তু বাস্তবে ব্যক্তিপুঁজির মুনাফা বৃদ্ধিতে এআইকে এমনভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে, যাতে মনে হতে পারে যে, মানুষের দ্বারা সৃষ্ট এআই মানুষকেই প্রতিস্থাপিত করে দিতে পারে। ব্যাবসায়িক প্রতিযোগিতা, মুনাফা বৃদ্ধির তাগিদ, মানুষ তথা রাষ্ট্রের উপর নিয়ন্ত্রণ, যুদ্ধের নিখুঁত পরিকল্পনা, আধিপত্য বিস্তার ইত্যাদি কাজের জন্য যে বিপুল পরিমান তথ্য ভান্ডার গড়ে তোলা হয়েছে, যা প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণে পুড়ছে তাপবিদ্যুৎ, বাতাসে মিশছে কার্বন ডাইঅক্সাইড, তার অনেকটাই অনাবশ্যক হয়ে যাবে যদি আমরা সমাজ সংগঠনকে অন্যভাবে ভাবতে শিখি। যদি উৎপাদনকে এমন স্তরে নিয়ে যেতে পারি যা আর উদ্বৃত্তমূল্য তৈরি করবে না তাহলে এই অনাবশ্যক তথ্যের ভারকে ঝেড়ে ফেলা যাবে, যা বিদ্যুতের ব্যবহারকে কমাতে সক্ষম হবে। এআইকে ব্যবহার করতে হবে জনকল্যাণে মানুষের সহায়ক শক্তি হিসাবে, মানুষের পরিবর্তে নয়। একমাত্র তখনই এআইকে পরিবেশের সঙ্গে একটি টেকসই ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব। মানব সভ্যতা এমন এক চৌরাস্তার মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে  যে এখন রাস্তা চিনতে ভুল করলে হারিয়ে যেতে পারে মানব প্রজাতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top