জনস্বাস্থ্য Archives - Pariprashna https://pariprashna.in/tag/জনস্বাস্থ্য/ Sat, 28 Aug 2021 05:36:18 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.1.2 https://i0.wp.com/pariprashna.in/wp-content/uploads/2018/03/cropped-pariprashna-Logo-1-2.jpg?fit=32%2C32&ssl=1 জনস্বাস্থ্য Archives - Pariprashna https://pariprashna.in/tag/জনস্বাস্থ্য/ 32 32 182578982 কোলেস্টেরল: দীর্ঘকালের এক বিভ্রান্তি https://pariprashna.in/article/science-and-technology/cholesterol-a-long-term-confusion/ https://pariprashna.in/article/science-and-technology/cholesterol-a-long-term-confusion/#respond Sat, 28 Aug 2021 05:36:12 +0000 https://pariprashna.in/?p=1775 কোলেস্টেরল হলো এক ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড যা মানবদেহের কোষ গঠনের জন্য বিশেষ প্রয়োজনীয়।

The post কোলেস্টেরল: দীর্ঘকালের এক বিভ্রান্তি appeared first on Pariprashna.

]]>
প্রীতিলতা বিশ্বাস

২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে আমেরিকার নিউট্রিশন অ্যাডভাইসারি প্যানেল উচ্চ কোলেস্টেরল যুক্ত খাবারের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। একশ আশি ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে বলা হয়েছে আর্টারীর ব্লক বা হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি হবার কোন সম্পর্ক নেই। অ্যমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়শনের গাইডলাইন অনুসারে প্রায় ১৯৬১ সাল থেকে আমেরিকার সরকার সে দেশের জনগনের খাদ্য তালিকায় উচ্চ কোলেস্টরল যুক্ত খাবারের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছিল, যা এই দীর্ঘকাল পরে তুলে নেওয়া হলো। ওয়াল্টার উইলেট, হার্বার্ট স্কুল অব পাবলিক হেল্থের চেয়ার, তার মতে এটি একটি যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ। ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডোর মেডিক্যাল প্রফেসর রবার্ট ইকোল, যিনি টাস্ক ফোর্সের সহকারী চেয়ার, তার মতে—কোলেস্টেরল নিয়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তিনি কোন বিজ্ঞান দেখতে পাননি। ইউ এস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচারের সাইন্টিস্ট ডেভিড কার্লফিল্ড এতদিনের এই বিধি-নিষেধকে একধরনের বৈজ্ঞানিক জাড্য বলে উল্লেখ করেছেন।

কোলেস্টেরল কী এবং কেন দরকার

কোলেস্টেরল হলো এক ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড যা মানবদেহের কোষ গঠনের জন্য বিশেষ প্রয়োজনীয়। মস্তিস্কের সক্রিয়তা নির্ভর করে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রার উপর। ২০১৯ সালে ‘সাইন্টিফিক অ্যামেরিকান’ নামক জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র বলছে—রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা যাদের বেশি থাকে তাদের বেশি বয়সে ডিমনেশিয়া হবার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে অর্থাৎ তাদের মস্তিস্ক বেশি সক্রিয় থাকে। এছাড়াও কোলেস্টেরল প্রজেস্টেরন, ইস্ট্রোজেন, কোর্টিজল ও টেস্টোস্টেরন জাতীয় স্টেরয়েড, হর্মোন ও ভিটামিন-ডি উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

মানবদেহে প্রতিদিন ৯৫০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল প্রয়োজন হয়, যার মাত্র ১৫% আসে খাবার থেকে। বাকি সবটাই তৈরী করে আমাদের লিভার। তাই রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি হওয়ার অর্থ লিভারের ভালোভাবে কাজ করা। আবার খাদ্য থেকে কোলেস্টেরলের সরবরাহ খুব কমিয়ে দেবার অর্থ লিভারকে বেশি উৎপাদনে বাধ্য করা।

কোলেস্টেরল নিয়ে বিতর্ক

কোলেস্টেরল নিয়ে প্রথম গবেষণা করেন নিকোলাই এনচিকভ ১৯১৩ সালে। খরগোসের দেহে উচ্চ কোলেস্টেরলযুক্ত খাবারের ক্ষতিকারক প্রভাব লক্ষ্য করেন। কিন্তু তার গবেষণাকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এরপর ১৯৪০ সালে এনচিকভের গবেষণা কুকুর ও ইঁদুরের দেহে করে কোনো ক্ষতিকারক প্রভাব দেখতে পাওয়া যায় না। তার কারণ মাংসাষী প্রাণীরা কোলেস্টেরলকে ভিন্ন উপায়ে সংস্লেষ করে। কিন্তু এখানেও আর বেশিদূর এগনো হয় না। প্রশ্ন থেকে যায় পশুর দেহের প্রতিক্রিয়া মানব শরীরের ক্ষেত্রে কতটা প্রযুক্ত?

৫০-এর দশকে লিপোপ্রটিন সংক্রান্ত গবেষণা শুরু হয়। কোলেস্টেরলকে LDL এবং  HDL এই দুই প্রকার ভাগ করা হয়। এখানে একটি টেকনিক্যাল প্রশ্ন উঠে আসে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নির্ণয় কী হাসপাতাল ল্যাবগুলিতে করা সম্ভব?এরপর আসরে নামেন এপিডেমিওলজিস্টরা, সেও মোটামুটি ৫০-এর দশকেই। এপিডেমিওলজির গবেষণায় সংখ্যাতত্ত্বের একটি বড় ভূমিকা থাকে। এই সময় নতুন এক শব্দবন্ধকে সামনে আনা হয়—রিস্ক ফ্যাক্টর। উচ্চ কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, শারীরিক সক্রিয়তার অভাব হৃদরোগের রিস্ক বা সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়।

খাদ্যাভ্যাস সংক্রান্ত বিষয়ে সাতটি দেশ এক সঙ্গে গবেষণা শুরু করে। এক্ষেত্রে বিজ্ঞানী এনসেল কিস সবথেকে বেশি আক্রমণের শিকার হন। কারণ তিনি খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে হৃদরোগের কোনো সম্পর্ক খুঁজে পান না। এই প্রসঙ্গে ২০১৬-এর ১৩ই জুনে World Economic Forum এ Rosamond Hutt এর লেখা প্রবন্ধ থেকে একটি অংশ তুলে দিলাম।

“Millions of people around the world take statins to reduce their risk of heart attack and stroke. But new research suggests they may be wasting their time: an international team of scientists has found no link between high levels of low-density lipoprotein (LDL) cholesterol and heart disease in a study of people aged 60 and over.”

বিতর্ক এখনো বজায় আছে, মনে হয় ভবিষ্যতেও থাকবে।

কোলেস্টেরল নিয়ে বিভ্রান্তিতে কাদের সুবিধা

একবার রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি হওয়ার অর্থ তাকে সারা জীবন ওষুধ খেয়ে যেতে হবে। ছ-মাস অন্তর রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে। ডায়েটে লো-ফ্যাট রক্ষা করতে হবে। মানুষকে এই শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে ফার্মা কোম্পানিগুলি কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করেছে এতদিন। বাদ যায়নি প্যাথোলজিক্যাল ল্যাবগুলিও। আর খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলি লো-ফ্যাট বা কোলেস্টেরল-ফ্রী ভোজ্য তেল, বাটার ইত্যাদি প্রস্তুত করার প্রতিযোগিতা চালিয়ে গেছে। বিভ্রান্ত হয়ে বলির পাঁঠা হয়েছে সাধারণ মানুষ।

বিজ্ঞান যখন ব্যাবসার হাতিয়ার

প্রাণী বিজ্ঞানে মানুষের কোষ আবিষ্কার হয়েছে বহু আগে। কোলেস্টেরল সম্পর্কেও মানুষ জানতে পেরেছে অনেক দিন হলো। তাহলে ধমনী বা আর্টারীর ব্লক বা তজ্জনিত হার্ট অ্যাটাক সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের সিদ্ধান্তে আসতে এত দেরি হচ্ছে কেন? LDL বা খারাপ কোলেস্টেরল এবং HDL বা ভালো কোলেস্টেরল এই রকম দুটি ভাগে ভাগ করে একটি সহজ অঙ্ক কষে কার্ডিয়াক রিস্ক ফ্যাক্টর বার করা হয়, যার বিস্তার ৩.৪ -৪.৪ । একবার যিনি এই সংখ্যার জালে আটকে গেলেন তার পকেট ফাকা হবার বন্দোবস্তটি একেবারে পাকা। এসবের সঙ্গে তিনি ফ্রীতে যেটা পাবেন তা হলো—একরাশ আতঙ্ক! যে আতঙ্ক আরো অনেক রোগের জন্ম দিতে পারে। অথচ ২০১৩ সালে আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজি এবং আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে খাদ্যে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ে গবেষনায় কোলেস্টেরলকে দায়ী করার মতো কোন যথোপযুক্ত প্রমাণ খুঁজে পায় নি। উপরের তথ্য থেকে আমরা দেখতে পাচ্ছি কোলেস্টেরল নিয়ে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বিজ্ঞানীরা বিভ্রান্তির মধ্যে আছেন। অথচ এই এক শতাব্দীতে আমরা প্রযুক্তিতে এতদূর এগিয়ে গেছি যে ভিন গ্রহের জমি পর্যন্ত কেনা-বেচা হচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞান কেন এত বিভ্রান্ত? চিকিৎসা বিজ্ঞানের পশ্চাদপদতা কী কারো কারো স্বার্থ রক্ষা করে?

ওষুধ শিল্পের পুঁজি ও জনস্বাস্থ্য

অর্থ (M)→পণ্য→অর্থ (M+△M) পুঁজিবাদী পণ্য সঞ্চালনের এই নিয়মে মুনাফার পরিমান △ M। আর মুনফার হার =△ M÷ M। এই রাশিটিতে লব ও হর উভয়ই পরিবর্তনশীল। কিন্তু হর যে পরিমানে বাড়বে লব তার তুলনায় সর্বদা বেশি পরিমাণে না বাড়লে রাশিটির সামগ্রিক মান অর্থাৎ মুনাফার হারে বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাবে না। বাজারের প্রতিযোগিতার কারণে পুঁজিপতির চেষ্টা থাকে সব সময় এই মুনাফার হারকে বাড়িয়ে চলার। পুঁজির এই স্বাভাবিক নিয়ম ওষুধ শিল্পের ক্ষেত্রেও সত্যি। তাই প্রতিনিয়ত ওষুধ শিল্পের পুঁজির স্বাস্থ্য রক্ষা করার জন্য বাজারের পরিধি  যেমন বৃদ্ধি করার দরকার, সেই সঙ্গে দরকার নতুন নতুন ওষুধের বাজার এবং ক্রেতাকে দীর্ঘমেয়াদী ক্রেতা হিসাবে বাজারের সঙ্গে বেঁধে ফেলা। নতুন ওষুধের জন্য প্রয়োজন নতুন রোগের। কোলেস্টেরল নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরী করার উদ্দেশ্য নিহিত আছে ওষুধশিল্পে পুঁজির স্বার্থের অন্দরে। আগেই বলেছি কোলেস্টেরল মানবদেহের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কম থাকলে বয়সকালে স্মৃতিশক্তির সমস্যা হতে পারে। আমরা আরও জেনেছি যে, কোলেস্টেরল গুরুত্তপূর্ণ কিছু হর্মোন তৈরীতে এবং ভিটামিন-ডি তৈরীতে অপরিহার্য। এই সংক্রান্ত কোন গবেষণা এখনো পর্যন্ত হয়নি, যে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে রাখার প্রচেষ্টা মানব দেহে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তবে কোলেস্টেরলের ওষুধগুলির কিছু সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে স্টেটিনস জাতীয় ওষুধ টাইপ-2 ডায়াবেটিস এবং লিভার ড্যামেজের কারণ হতে পারে বলে বলা হয়। দেখা যাচ্ছে সব ক্ষেত্রেই মানুষ বেঁচে থাকবে ওষুধ আর চিকিৎসার জালে জড়িয়ে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান মানুষের গড় আয়ু বাড়িয়েছে ঠিকই কিন্তু সুস্থতার সংজ্ঞা পাল্টে গেছে, মানুষ দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা আর ওষুধের পুটুলিকে সম্বল করে বাঁচে। আর যাদের কোন কারণে হসপিটালের সাহায্য নিতে হচ্ছে তাদের দূরবস্থা সীমাহীন। ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক এবং হু-র ২০১৭ সালের একটি রিপোর্ট বলছে– প্রতিবছর বিরাট সংখ্যক মানুষ দারিদ্রসীমার নীচে নেমে যাচ্ছে চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করতে গিয়ে, যদিও সারা পৃথিবীতে প্রায় অর্ধেক মানুষ নুন্যতম স্বাস্থ্য পরিষেবাটুকুও পান না।

রোগ নির্ণয়ের জন্য অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি বাজারে আসছে, যা পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ বাড়িয়ে চলেছে। কিন্তু কখনোই রোগের সঠিক কারণ নির্ধারণ করে রোগ নির্মূল করার চিকিৎসা পদ্ধতি বার করা হচ্ছে না। বিজ্ঞান গবেষনার মূলে রয়েছে কার্য-কারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানে সমাধানে পৌঁছনো বা মানুষের সুস্থ শরীরে বাঁচার সঙ্গে ওষুধ শিল্পে নিয়োজিত পুঁজির এবং চিকিৎসা বাণিজ্যের রয়েছে দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক। মানুষ সুস্থ শরীরে বাঁচলে ওষুধ শিল্পের বাজার সঙ্কুচিত হয়ে নিয়োজিত পুঁজির মৃত্যু ঘটবে। পরিষেবা নেবার আর্থিক ক্ষমতা যাদের আছে তাদের নিঙড়ে নিয়েই এই শিল্পকে বেঁচে থাকতে হবে। আর তাই কোলেস্টেরলের মতো চিকিৎসা জালিয়াতি হতেই থাকবে। বর্তমানে কোভিড নিয়ে শুরু হয়েছে মানুষকে বিভ্রান্ত করে পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন করে ঘরবন্দী করার চক্রান্ত। উন্মুক্ত হয়েছে পৃথিবী জুড়ে ভ্যাকসিনের বিরাট বাজার, সঙ্গে আছে মাস্ক, স্যানেটাইজার নিয়ে ব্যবসা। ইতিমধ্যেই হাসপাতালের চিকিৎসা নিতে গিয়ে ধনে-প্রাণে শেষ হয়েছেন বহু মানুষ।

কীভাবে মানুষকে দীর্ঘমেয়াদী রোগের জালে জড়িয়ে ওষুধ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা যায় তা বাস্তবায়িত করা হচ্ছে। ফার্মা কোম্পানিগুলির পৃষ্ঠপোষকতায় চলছে বিভিন্ন প্রজেক্ট নির্ভর গবেষণা। অর্থাৎ লগ্নিপুঁজির সঙ্গে সঙ্গে এখানে কাজ করছে একধরনের জ্ঞানপুঁজি (knowledge capital)।      

মানুষের কী করণীয়

এত মানুষকে যে এতদিন ধরে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ খেতে বাধ্য করা হলো, তাদের খাবারের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হলো, তার জন্য কে বা কারা দায়ী থাকবে? মানুষকে সচেতন হতে হবে। সুস্থিত খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, এক কথায় সুস্থ জীবনশৈলী মানুষকে নীরোগ রাখতে পারে। কিন্তু মানুষ প্রকৃতির কোলে একক হিসাবে বাঁচে না, সে বাঁচে তার সমাজবদ্ধতায় এবং প্রকৃতির সঙ্গে দেওয়া-নেওয়ার সম্পর্কে। অসুস্থ প্রকৃতি, অসুস্থ সমাজে সে কখনও এককভাবে সুস্থ থাকতে পারে না। তাই রাসায়নিক সার, কীটনাশক ইত্যাদির ব্যবহার থেকে কৃষিকে মুক্ত করার দাবী তুলতে হবে। পরিবেশ ধ্বংসকারী উন্নয়নের বিরুদ্ধে যুথবদ্ধ হতে হবে। কোম্পানিগুলির বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনকে আরও শক্তিশালী করার দাবীতে সোচ্চার হতে হবে। মানুষের সুস্থভাবে বাঁচার প্রথমিক শর্ত- বিষমুক্ত খাবার ও দূষণমুক্ত বায়ু, যার জন্য লড়াই জারি রাখতে হবে।

তথ্যসূত্র:

1.https://www.drperlmutter.com/brain-needs-cholesterol/#:~:text=Your%20Brain%20Needs%20Cholesterol.%20Cholesterol%20is%20vitally%20important,antioxidant%2C%20and%20serves%20as%20the%20raw%20material%20

2. The Cholesterol Controversy | Science-Based Medicine (sciencebasedmedicine.org)   

লেখক পরিচিতি:

বিজ্ঞানের ছাত্রী, গণিতে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কাজ করেছেন এক দশকের উপর। বর্তমানে প্রবাসী এবং ইতিহাস ও সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ে জানা বোঝায় আগ্রহী।

যোগাযোগ:

biswaspritilata2017@gmail.com

The post কোলেস্টেরল: দীর্ঘকালের এক বিভ্রান্তি appeared first on Pariprashna.

]]>
https://pariprashna.in/article/science-and-technology/cholesterol-a-long-term-confusion/feed/ 0 1775
ওষুধ শিল্প বনাম জনস্বাস্থ্য https://pariprashna.in/article/health/pharmaceutical-industry-vs-public-health/ https://pariprashna.in/article/health/pharmaceutical-industry-vs-public-health/#comments Mon, 28 Jun 2021 07:33:46 +0000 https://pariprashna.in/?p=1710 প্রীতিলতা বিশ্বাস সর্দি, কাশি, সামান্য জ্বর, অথবা এলার্জি ইত্যাদি অসুবিধার জন্য প্রায়শই মানুষ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধের দোকান থেকে দোকানদারের পরামর্শ মত ওষুধ কিনে খেয়েই চালিয়ে দেন। আজকের অতিমারির আবহে বিষয়টা বেড়েছে বই কমে নি। দোকানদাররা এসব ক্ষেত্রে যে ওষুধগুলো সাধারণত দিয়ে থাকেন তাকে সংক্ষেপে এফডিসি ড্রাগ বলা হয়। যার পুরো কথা হল, ফিক্সড ডোজ […]

The post ওষুধ শিল্প বনাম জনস্বাস্থ্য appeared first on Pariprashna.

]]>
প্রীতিলতা বিশ্বাস

সর্দি, কাশি, সামান্য জ্বর, অথবা এলার্জি ইত্যাদি অসুবিধার জন্য প্রায়শই মানুষ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধের দোকান থেকে দোকানদারের পরামর্শ মত ওষুধ কিনে খেয়েই চালিয়ে দেন। আজকের অতিমারির আবহে বিষয়টা বেড়েছে বই কমে নি। দোকানদাররা এসব ক্ষেত্রে যে ওষুধগুলো সাধারণত দিয়ে থাকেন তাকে সংক্ষেপে এফডিসি ড্রাগ বলা হয়। যার পুরো কথা হল, ফিক্সড ডোজ কম্বিনেশন ড্রাগ বা ঔষধ। অর্থাৎ দুই বা ততোধিক সক্রিয় ওষুধের নির্দিষ্ট মাত্রার মিশ্রন থেকে তৈরি একটি ককটেল ওষুধ, যা কিনা একাধিক উপসর্গকে একসাথে উপশম করতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়। কিন্ত এর পিছনে কোন নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা নেই। 2013 সালের একটি সরকারি নির্দেশিকা অনুসারে এইডস, টিবি, ম্যালেরিয়া এই তিন ক্ষেত্রে এফডিসি ড্রাগের অনুমতি দেওয়া হয়। ভারতে ওষুধ শিল্পের ঘরোয়া বাজারের পরিমান টাকার অংকে এক লক্ষ কোটির ওপর, যার শতকরা 50 ভাগ দখল করে আছে এই মিশ্র ওষুধ। মজার কথা হল এরকম অনেক মিশ্র ওষুধ  বাজারে চলছে যেগুলির ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়ার কোন  ছাড়পত্রই নেই। 2014 সালের 16ই সেপ্টেম্বর “ইউনিয়ন হেল্থ মিনিস্ট্রি” একটি কমিটি গঠন করে এই সকল ছাড়পত্র বিহীন ওষুধগুলির যোগ্যতা এবং জনস্বাস্থ্যের পক্ষে কতটা নিরাপদ তা খতিয়ে দেখবার জন্য। এই কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর সি কে কোকাতে’র নাম অনুসারে এটি কোকাতে কমিটি হিসাবেই পরিচিত। 2016 সালের মার্চে কোকাতে কমিটির রিপোর্ট অনুসারে অবৈজ্ঞানিক এবং ক্ষতিকারক 344 এফডিসি ড্রাগকে বাতিল ঘোষণা করে, যা কিনা হিমশৈলের চূড়ামাত্র।

 এই নিষিদ্ধ ওষুধের বাজারজাত মূল্য প্রায় 2500 কোটি টাকা এবং এর অভিঘাত গিয়ে পড়ে অন্তত 6000 ব্র্যান্ডের উপর। সঙ্গে সঙ্গে ফাইজার, প্রোক্টার অ্যান্ড গ্যাম্বেল, অ্যাবট, গ্লিনমার্ক, সানোফি, ওকহার্ট, সিপ্লা, লুপিন ইত্যদি ওষুধ কোম্পানি দিল্লী হাইকোর্টে এই রায়ের উপর স্টে-অর্ডার চেয়ে আবেদন করে। দিল্লী হাইকোর্টে প্রায় 450টি কেস হয় এই সংক্রান্ত। 2016র ডিসেম্বরে দিল্লী হাইকোর্ট এই নিষেধাজ্ঞাকে বাতিল করে এই বলে– “এই সিদ্ধান্ত নেবার সময় ড্রাগস টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজারি বোর্ড বা ড্রাগস কনসালটেটিভ কমিটির সঙ্গে কোন আলোচনা করা হয় নি, যা ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিক অ্যাক্টের উল্লঙ্ঘন”। হেল্থ অ্যান্ড মিনিস্ট্রি এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় 2017 সালের ডিসেম্বরে। বন্ধুরা নিশ্চয় ভাবছেন সুপ্রিম কোর্ট কী রায় দিল, ঐ 344 টি ওষুধ বাতিল হলো কিনা? আমাদের বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা তো সুবিদিত। চলতি বছরের 19শে এপ্রিল থেকে আবার শুনানি শুরু হয়েছে। আর ওষুধগুলো? উৎপাদিত হয়ে বাজারজাত হবার হার হয়ত একটু কমলেও কমতে পারে! সঠিক তথ্য জানা নেই। তবে দিল্লী হাইকোর্ট যে ওষুধগুলির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় তার কয়েকটি হলো—ফাইজারের কোরেক্স কাফ সিরাপ, গ্ল্যাকসোর পিরিটন এক্সপেকটোরেন্ট এবং ক্রোসিন কোল্ড, গ্লেনমার্কের এসকোরিল, এবং এলেক্সী কাফ সিরাপ, অ্যাবোটের ফেনসিডিল কাফ সিরাপ এবং অ্যালেম্বিকের গ্লাইকোডিন কাফ সিরাপ।

মানুষের শরীর- স্বাস্থ্যের পরোয়া না করে এরকম মিশ্র ওষুধ উৎপাদন ও বিপণন হবার কারণগুলো ঠিক কী ধরণের সেটা বোঝা দরকার। জনস্বাস্থ্য অভিযানের জাতীয় আহ্বায়ক অমিত সেনগুপ্তের মতে—একক উপাদান-নির্ভর ঔষধগুলি সরকারের মূল্য নিয়ন্ত্রন প্রকল্পের অধীনে পড়ে। কিন্তু এই মিশ্র ঔষধগুলি মিশ্র হবার কারণে সেই আইনের ফাঁক দিয়ে গলে যায়। যার অর্থ অনিয়ন্ত্রিত লাভের মুখ দেখা। আর ওষুধ কোম্পানিগুলি পরষ্পরের সঙ্গে পাল্লা দেবার জন্য নিত্য নতুন কম্বিনেশন বাজারে হাজির করে নিজেদের ওষুধের বিশিষ্টতা প্রমানের উদ্দেশ্যে এবং কিছুদিনের জন্য বাজারে ওষুধটির একচেটিয়া আধিপত্য টিকিয়ে রাখার জন্য। আর ওষুধের প্রচার ও প্রসার কীভাবে হয়ে থাকে সে বিষয়ে আমাদের সকলেরই একটু আধটু ধারণা আছে। ডাক্তাররাও এই শৃঙ্খলের একটা অংশ হয়ে পড়েন ক্রমশ।

ক্রেতা কেন কেনেন? প্রথমত তার অজ্ঞতা, দ্বিতীয়ত বিভিন্ন উপসর্গের জন্য একটি ওষুধ পেলে তার অর্থ সাশ্রয় হয় খানিকটা। আর ঐ যে শুরুতেই বললাম বেশিরভাগ সময় রোগ নির্ণয় হয় হাতুড়ে জ্ঞানের ভিত্তিতে (চাইলেও উপায় নেই। যে দেশে 1456 জনে একজন ডাক্তার তাও আবার মোটামুটি শরাঞ্চলে সেখানে হাতুড়ে ছাড়া উপায় কী!)। তাই নির্দিষ্ট ওষুধের পরিবর্তে মিশ্র ওষুধ দিয়ে একূল ওকূল রাখার একটা প্রবনতা থাকে। আসলে এক্ষেত্রে অসুস্থতার কারণ ও তার নিরাময়ের উপায়ের মধ্যে যে একটি কার্য-কারণ সম্পর্ক বিদ্যমান, সেটিকেই অস্বীকার করা হয়। রোগীর স্বাস্থ্য কিংবা তার সুস্থতার চেয়েও ওষুধ শিল্পের শ্রীবৃদ্ধিই এর একমাত্র লক্ষ্য।

ফলাফল কী? প্রয়োজন নেই এমন রাসায়নিক দেহে প্রবেশ করছে, যা নানান রকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। দেহ ঔষধ-প্রতিরোধী হয়ে উঠতে পারে, মানে নির্দিষ্ট ওষুধ দিয়েও তখন আর কাজ হবে না।

এই ঔষধ-প্রতিরোধী হয়ে ওঠা নিয়ে ওষুধ শিল্পের আরও ভয়ঙ্কর একটি দিক হল– যথেচ্ছ অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার। এবার আসবো সেই প্রসঙ্গে। 1928 সালে স্কটল্যান্ডে আলেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিয়াম নোটেটাম নামক ছত্রাক থেকে পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন, যা ব্যাকটেরিয়া মারতে সক্ষম। তারপরে 1940 সালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির দুজন বিজ্ঞানী, হাওয়ার্ড ফ্লোরি এবং আর্নেস্ট চেইন এই পেনিসিলিনের ঔষধি গুন প্রমাণ করে দেখান। প্রাথমিক ভাবে পেনিসিলিন ওষুধ উৎপাদন সম্ভব হয়। ইতিমধ্যে আমেরিকার বোস্টন শহরে কিছু মানুষের ত্বকে সট্যাফাইলোকক্কাসের সংক্রমন হয়। যে সংক্রমনের চিকিৎসায় পেনিসিলিন ব্যবহার করে অভূতপূর্ব ফল পাওয়া যায়। এরপর আমেরিকার সরকার সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাতে ওষুধ হিসাবে পেনিসিলিন উৎপাদন সম্ভব হয় এবং সেই ওষুধ সরাসরি কাজে লাগানো হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আহত মিত্রশক্তির সৈন্যদের উপর।

ওষুধ শিল্পে প্রকৃতপক্ষে যুগান্তর ঘটে 1945’র পর থেকে। আমেরিকা পেনিসিলিনের উপর থেকে সব রকমের নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়ে সাধারণের জন্য প্রেসক্রিপশন ড্রাগ হিসাবে বিক্রয়যোগ্য করে। ব্রিটেনে 1946’র জুন থেকে সাধারণের জন্য পেনিসিলিন বিক্রয়যোগ্য করা হয়। ঔষধ শিল্প অ্যান্টিবায়োটিকের যুগে পা রাখল। এই শিল্পে বিনিয়োগ এবং লাভ দুই-ই ক্রমাগত বেড়েছে এরপর ধেকে।

 1948 সালে আমেরিকার অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন ছিল 2.4 মিলিয়ন পাউন্ড, 1956 সালে তা হয় 3 মিলিয়ন পাউন্ড। ওষুধ কোম্পানিগুলির নিজস্ব পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলে বাজারে এসেছে স্ট্রেপ্টোমাইসিন, ক্লোরামফেনিকল, ক্লোরটেট্রাসাইক্লিন, অ্যাসিটেট্রাসাইক্লিন এবং আরো কিছু অ্যান্টিবায়োটিক। কিন্তু 1960 থেকেই চিত্রটি বদলে যেতে থাকে। ব্যাকটেরিয়া যত ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে উঠতে থাকে, বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক তত বাতিল হতে থাকে। ক্রমশ বড় বড় ওষুধ কোম্পানি অ্যান্টিবায়োটিকের গবেষণা এবং উৎপাদন প্রায় বন্ধ করে দিতে শুরু করে। কারণ খরচের তুলনায় লাভ হচ্ছে সামান্য।

আসুন তাহলে একটু জেনে নিই অ্যান্টিবায়োটিক আমাদের দেহে ঠিক কীভাবে কাজ করে আর ব্যাকটেরিয়ার ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে ওঠা বলতে কী বোঝানো হয়। প্রতিটি মানুষের দেহে 10 ট্রিলিয়ন মানব কোষ থাকে আর এর দশ গুন মানে 100 ট্রিলিয়ন অনুজীবানু থাকে। আমাদের মুখগহ্বর, ত্বকে বিশেষত অন্ত্রে লক্ষ লক্ষ অনুজীবানু বা ব্যাকটেরিয়ার কলোনি আছে, যেগুলি আবার একটি আর একটির থেকে পৃথক। যাদের সঙ্গে মানুষ মিথোজীবিতার সম্পর্কে বাঁচে। হাজার হাজার বছরের বিবর্তনের ফলে মানুষের দেহে গড়ে উঠেছে এই কলোনি গুলি, যে অনুজীবানুগুলির মাধ্যমেই প্রতিটি মানুষ তার চারিপাশের প্রকৃতি এবং পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়ে জীবন যাপন করে। তাই এদের মানুষের বন্ধু অনুজীবানু বলা যেতে পারে। মাত্র 100টি প্রজাতির অনুজীবানু মানুষের ক্ষতি করে। এদের কোন একটির দ্বারা আক্রান্ত হলে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মারে, এবং তার বংশবৃদ্ধি রোধ করে। কিন্তু এর প্রয়োগ সঠিক এবং উপযুক্ত মাত্রায় না হলে, ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াটি না মরে ঐ ওষুধটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে পরিবেশে অবস্থান করে। পরে অপর কোন ব্যাক্তির দেহেও উক্ত অ্যান্টিবায়োটিকটি প্রতিরোধী হয়ে ওঠা ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে না, যদিও তিনি আগে কখনো ঐ অষুধ গ্রহণ করেন নি। এছাড়াও ব্যাকটেরিয়া জিন আদান-প্রদানের মাধ্যমে যে সকল ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী নয় তাদেরকেও প্রতিরোধী করে তোলে। যারা পশু খামার চালান তারা ব্যবসায়িক কারণেই পশু-খাবারে অল্প অ্যান্টিবায়োটিক মিশিয়ে দেন। আর অল্প পরিমানে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার জিন আদান-প্রদান ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে প্রথমে পশুদের দেহে প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া তৈরী হয়, সেখান থেকে মানুষের দেহে স্থানান্তরিত হয়। পশুপাখির বর্জ থেকে এই প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া মেশে মাটি এবং জলে। ডাঃ স্ট্যুয়ার্ট ব্ল্যাক লেভির অ্যান্টিবায়োটিক প্যারাডক্স নামক তত্ত্ব বলছে—যে অ্যান্টিবায়োটিক যত বেশি ব্যবহৃত হয় তার বিরুদ্ধে ব্যাকটেরিয়া তত বেশি প্রতিরোধী হয়ে ওঠে। পরিবেশকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে আমরা যে যে ধরণের সলিউশন ব্যবহার করি তার প্রত্যেকটিতে আছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল রাসায়নিক। অর্থাৎ ক্ষতি কোন ব্যাক্তি বিশেষের নয়, ক্ষতি সমগ্র কমিউনিটির এবং সেই সঙ্গে বাস্তুতন্ত্রের। উল্টে অ্যান্টিবায়োটিক আমাদের দেহের উপকারি ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে, যা পুনরুৎপাদনে অনেক সময় লাগে, কখনো কখনো আবার তা স্থায়ীভাবে অবলুপ্ত হয়। যেহেতু আমরা প্রত্যেকেই এই অনুজীবানুদের মাধ্যমে পরিবশের বাস্তুতন্ত্রের একটি বিপাকীয় শৃঙ্খলে বাস করি তাই এই ধরনের অনুজীবানুদের অবলুপ্তি বাস্তুতন্ত্রে বিপাকীয় ফাটল তৈরি করে, যার বিরুপ প্রতিক্রিয়া হয় মানুষের জীবনে। সাইন্টিফিক অ্যামেরিকান জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ থেকে জানতে পারছি—গ্যাসট্রিক হেলিকোব্যাকটর ফাইলোরি নামক ব্যাকটেরিয়াটি আমেরিকা ও অনেক উন্নত দেশে প্রায় বিলুপ্তির পথে। এর ফলে গ্যাসট্রিক ক্যানসারের প্রবনতা কমে এসেছে উক্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে কিন্তু বিপরীতে হরমোন নিয়ন্ত্রন এবং রক্তের পিএইচ মাত্রার উপর এর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ফলে অল্প বয়সের স্থূলতা এবং টাইপ-টু ডায়াবেটিক প্রায় মহামারীর আকার ধারণ করেছে। অতএব বন্ধুরা বুঝতে পারছেন তো, অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারে কতটা সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ওষুধ কোম্পানিগুলির অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন করে মুনাফা করার তাগিদে অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ন্ত্রনহীনভাবে খোলা বাজারে  বিক্রি হচ্ছে। যে বিষয়ে আলেকজান্ডার ফ্লেমিং তার নোবেল প্রাইজ বিজয়ের বক্তৃতায় সতর্ক করেছিলেন, তা কোনদিন মানা হয়নি। হিসাব বলছে এই ব্যাকটেরিয়া ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে ওঠার কারনে প্রতি বছর 7 লক্ষ মানুষ মারা যায়। 2050 নাগাদ হিসাবটি বছরে 10 মিলিয়ান হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানের অতিমারি ওষুধ কোম্পানিগুলোর সামনে ভ্যাকসিনের এক নতুন বাজার উন্মুক্ত করেছে। বিভিন্ন দেশের সরকার এই ভ্যাক্সিন ফ্রীতে দিলেও আম জনতার ট্যাক্সের টাকা যাচ্ছে ওষুধ কোম্পানিগুলির ঘরে।

এই চক্রব্যূহ থেকে বেরনোর একটিই রাস্তা। জনস্বাস্থ্য পরিষেবার বিকাশ সাধন। জনস্বাস্থ্য বলতে আমরা ঠিক কী বুঝবো? ইংরাজীতে একটি প্রবচন আছে—prevention is better than cure.  জনস্বাস্থ্য বলতে এই প্রিভেনশন অর্থাৎ অসুস্থ হওয়াটাকেই রোধ করার কথা বলা হয়। WHO এর সংজ্ঞা অনুসারে জনস্বাস্থ্য বা community health is : environmental ,social and economic resources to sustain emotional and physical well-being among people in ways that advances their aspirations and satisfy their needs in their unique environment.

স্বাস্থ্য পরিষেবাকে তিনটি স্তরে বা পর্যায়ে ভেঙে নিতে হবে। প্রথম স্তরে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সকল অধিবাসীর নাম এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য নথিভূক্ত করতে হবে। এই স্তরে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীরা স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন ও তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর রাখবেন, যা মানুষের অসুস্থ হবার ঝুঁকিকে কমিয়ে রোগ-প্রতিরোধী হয়ে বাঁচতে সাহায্য করবে। দ্বিতীয় স্তরে হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে, যেখানে প্রাথমিক স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুসারে মানুষের ক্লিনিকাল চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে। তৃতীয় বা শেষ স্তরে থাকবে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা সঙ্কটাপন্ন রোগীর চিকিৎসা। প্রাথমিক স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করবেন পরিবেশকর্মীরা, যারা বাস্তুতন্ত্রের সুস্থতা নিয়ে কাজ করবেন। খোলা বাজারে ওষুধ বিক্রি নিষিদ্ধ করতে হবে। ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হবার হাত থেকে মানুষকে বাঁচতে হবে। ব্যাথা-যন্ত্রনার জন্য মুঠোভরে পেন কিলার না খেয়ে যন্ত্রনাবিহীন, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বিহীন চিকিৎসা আকুপাংচার থেরাপিকে মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। চিকিৎসা হলো মানুষের জন্য সামাজিক পরিষেবা, তা কখনোই ওষুধ কোম্পানি বা বেসরকারি হাসপাতালের ব্যাবসার সামগ্রী হতে পারে না। আর জনস্বাস্থ্যের উন্নতি ব্যাতিরেকে একটি জাতি বা দেশের উন্নতি কখনো সম্ভব নয়।

তথ্যসূত্র:

https://www.scientificamerican.com/article/human-microbiome-change/

https://en.m.wikipedia.org/wiki/Community_health

https://www.livemint.com/Industry/I3tznDsotKp1dd3GY30q8I/Expert-committee-set-up-to-review-344-banned-FDC-drugs.html?facet=amp

লেখক পরিচিতি:

বিজ্ঞানের ছাত্রী, গণিতে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কাজ করেছেন এক দশকের উপর। বর্তমানে প্রবাসী এবং ইতিহাস ও সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ে জানা বোঝায় আগ্রহী।

যোগাযোগ:

biswaspritilata2017@gmail.com

The post ওষুধ শিল্প বনাম জনস্বাস্থ্য appeared first on Pariprashna.

]]>
https://pariprashna.in/article/health/pharmaceutical-industry-vs-public-health/feed/ 4 1710